
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত দিনে তা হচ্ছে না। পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যাচ্ছে। জাহাজমালিকদের আশা, আগামী ৫ বা ৬ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে।
জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ২৫ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগের বছরের শর্ত বহাল রাখা হয়েছিল। এতে নভেম্বরে দিনে গিয়ে একই দিনে ফিরে আসা এবং ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়।
পরে ২৭ অক্টোবর সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত পর্যটকদের ভ্রমণ ও রাতযাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন বলেও জানানো হয়।
তবে জাহাজ চলাচলের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদন, বিআইডব্লিউটিএর রুট পারমিট এবং জেলা প্রশাসকের অনুমতি প্রয়োজন। এসব প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। পাশাপাশি পর্যটকদের তথ্য সংগ্রহে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সফটওয়্যারও প্রস্তুত হয়নি।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম জানান, প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় ১ নভেম্বর জাহাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে ৫ বা ৬ নভেম্বর থেকে চলাচল শুরুর প্রস্তুতি চলছে।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, পর্যটকদের জন্য দ্বীপ খুলে দেওয়ার ঘোষণায় স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ আশাবাদী হয়েছিলেন। পর্যটকদের রাতযাপনের জন্য ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে জাহাজ চলাচলের তারিখ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, ১ নভেম্বর থেকে দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলেও জাহাজের ফিটনেস ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। এ বিষয়ে শনিবার বেলা ১১টায় জাহাজমালিকদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠকে জাহাজ চলাচলের সুনির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হতে পারে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট ছাড়া টেকনাফ, শাহপরীরদ্বীপ কিংবা উখিয়া থেকে সেন্টমার্টিনে যাওয়ার সুযোগ নেই। কেবল সরকার অনুমোদিত জাহাজে অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে পর্যটকেরা দ্বীপে যেতে পারবেন। গত বছর পর্যটকবাহী একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর এবার জাহাজগুলোর ফিটনেস ও নিরাপত্তা যাচাইয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করে। নুনিয়ারছড়া থেকে দ্বীপটির দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। পুরো পথই পাড়ি দিতে হয় বঙ্গোপসাগর দিয়ে।